একটি আত্মার ক্রন্দন

112

মানুষের জীবনে উত্থান-পতন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনে যদি দুঃখ নাই আসে তবে কি জীবনে সুখের আস্বাদ পাওয়া যায়?? না যায়না।

আমাদের জীবনে চাহিদার শেষ নেই। চাওয়ার শেষ নেই। প্রতি পদে পদে আপনি আপনার মনের সুপ্ত বাসনাকে বাস্তব রুপ দিতে দৃঢ় প্রত্যয়ী। যেকোন কিছুর বিনিময়ে আপ্পনি আপনার জীবনে সুখের আশায় বিভোর। চাওয়াই আমাদের অন্ধ করে রেখেছে। আপনার চাওয়া পূরণ করার জন্য কেউ কষ্ট পেলো কিনা তা দেখার বিষয় নয়। এতে কারো জীবন বিপন্ন হলেও আপনার কিছুই করার থাকেনা। আপনি যতই আপন ভাবুন না কেন আপনার ইচ্ছার আপনার স্বপ্নের কোনোই মূল্য নেই আমার কাছে। আমি আমার স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এক পায়ে খাড়া।

আপনি কাউকে ভালবেসেছেন কিন্তু সে তার স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনার জীবনের মূল্যই দেবে না এটাই নিয়ম। এটাই প্রকৃতির নিয়ম বোধহয়। আপনার আমার জন্মদাত্রী মা? যে মা অনেক কষ্ট সহ্য করে, দশ মাস দশ দিন, গর্ভে ধারন করার পর, মৃত্যু কষ্টের সমান কষ্ট সহ্য করার পর আপনাকে আমাকে জন্ম দেয়। সেই মা আপনার মৃত্যুর পর কয়েকদিন কান্না করার পর , আর কান্না করতে পারেনা। তার মন কে শক্ত করার নানা উপায় খুঁজতে থাকে। সেখানে এই পৃথিবীর অন্য কেউ আপনার জন্য নিজের জীবন, ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে কি কারনে??

আপনার পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করে দেখুন । আপনিই মনেহয় এই পৃথিবীতে কোন অজানা গ্রহ থেকে ঘুরতে এসেছেন। আপনাকে দেখে সকলের নাক সিটকানি দেখে মনেহবে আপনিই বোধহয় কোন মৃত প্রাণী যার শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আপনাকে যে মেয়েটি ভালবাসত সেও নানা অজুহাতে আপনাকে তার জীবন থেকে সড়ানোর নানা ফন্দি ফিকির করে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। আপনার অসহায়ত্ব কারো মনে দাগ কাটবেনা।

একটা মানুষ যখন অসহায় হয়ে পড়ে তখন সু-সময়ের বন্ধুরা গায়ে কাঁদা লাগানোর ভয়ে আপনার কাছ থেকে দূরে চলে যাবে। আপনার পরিবার আপনাকে পরিবারের সদস্য বলে সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করবে। যদি কেউ আপনার বাবাকে বলে আপনার সন্তান কতজন? দেখবেন তিনি আপনাকে হিসাবে না ধরেই হিসাব করে বলবে আমার এতজন সন্তান। আপনার কথা বললে হয়ত আপনার সম্পর্কে জানতে চাইবে? তখন তিনি কি উত্তর দিবেন?

পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করা মানেই কি জীবনের সবকিছু?? একজন ছাত্র যখন পরীক্ষায় খারাপ করে তখন তাকে নিজের কাছেই নিজেকে অসহ্য বলে মনেহয়। তখন যদি পরিবার, সমাজ তাদের অবজ্ঞা করে তখন তাদের যে কান্না আসে সে কান্না সে নিজে ছাড়া অন্য কেউ শুনতে পারে না। তার আত্মা নীরবে কেঁদে যায় একটু সান্ত্বনার আশায়। কিন্তু আদৌ কি তারা সান্ত্বনার জায়গা খুঁজে পায়?

নীরবে নষ্ট হয়ে যায় একটি সুন্দর মন। একটি স্বপ্নের মৃত্যু হয়। নষ্ট হয় একটি জীবন। আর নিজেই শুনতে পায় নিজের আত্ম চিৎকার। কেঁদে যায় নিভৃতে একটি অবহেলিত আত্মা। যে আত্মা একটু ঠাঁই পেলে হয়ত আবার স্বপ্ন দেখত। আবার নতুন স্বপ্নের আলোয় উদ্ভাসিত হতো । হে সমাজের মানুষ এমন সব অবহেলিত আত্মাদের একটু হাত বাড়িয়ে দিন দেখবেন আপনাদের হাতে হাত রেখে তারা অনেক আলো ছড়িয়েছে। আলোকিত করেছে চারদিক।

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.