রুপা এসেছিল হিমুর স্বপ্নে

হিমু-কুইজ-696x464

ভাইয়া হিমু মানে কি??

-গল্পের যাদুকর হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের বিশেষ কয়েকটা চরিত্রের মধ্যে অন্যতম একটি চরিত্রের নাম হিমু।

মেয়েটার কথায় আমি এই সাদামাটা জবাবটা দিয়ে দিলাম।
মেয়েটা আবার বললো।
-হিমুর তো আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য থাকে উপন্যাসগুলোতে?

এই প্রশ্ন শোনে আমার প্রবল সন্দেহ হলো
নিশ্চয়ই এ হিমু চরিত্রের সাথে পরিচিত কেউ।
তা না হলে হিমুর আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে বুঝলো কি করে।
তবে আমাকে এই প্রশ্ন কেন করলো?

-হুম কিছু তো অন্যরকম বৈশিষ্ট্য আছেই।
-সাধারণ দুই একটা বলুন তো।
-সাধারণ বলতে?
-যেগুলো যে কেউ চাইলে করতে পারে।
-এই যেমন পকেট ছাড়া হলুদ পাঞ্জাবি পড়া,কিছুতেই না কাদা।
-কাদতে না পারাটা আপনার কাছে সহজ মনে হয়?
-আচ্ছা আপনি কি জানতে চাইছেন সেটা বলেন তো?
-সেই প্রশ্নটাই তো করলাম।
-বিরক্তিমাখা কণ্ঠে বললাম
আমার কাছে মনে হয় চেষ্টা করলে সবাই
পারবে।
-করেছেন কখনও?

দেখেন আপনার কাছে আমি কোন ভাইবা নিয়ে আসিনি।আপনি কি জানতে চান সোজাসাপ্টা বলেন।আমার কাজ আছে।

-আপনার এফবি আইডির নাম…
-হিমু আহমেদ।
-আমি জানি।
-আপনি জানেন কি করে?আমি কি আপনার পরিচিত কেউ?
-পরিচিত হতে কি লাগে?
-আপনার কি বারবার প্রশ্ন করার কোন রোগ আছে?
-থাকলে থাকতেও পারে।
-আজব মেয়ে তো আপনি।আচ্ছা আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো?
-জ্বী করেন।
-পথ ঘাটে এতো মানুষ থাকতে
আমাকে কেন ধরেছেন?
-আপনি মিথ্যুক তাই।
-এ কি পাগলের মতো কথা!আমি কখন মিথ্যা বললাম?
-হিমু আহমেদ নাম দিয়ে আইডি চালান কিন্তু আপনার মধ্যে হিমুর কোন বৈশিষ্ট্যের ছিটেফুটাও নেই,এটা কি মিথ্যাচার নয়?
-আমি একটু নড়ে চড়ে বললাম আপনি
আমার সম্পর্কে এসব বলার কে?
-আমি ছাড়া অন্য কেউ আপনাকে এসব জিজ্ঞাস করবে না।
-আপনিই বা কেন জিজ্ঞাস করবেন?
-কারণ আমি হিমুর কাছের একজন।
-হিমুর কাছের মানে?
-এতো সহজ কথার মানেও আপনাকে
বলে দিতে হয়?
আপনি তো হিমু মানুষ।হিমুরা বুঝি সহজ কথা সহজে বুঝে না?
-আপনি কিন্তু আমাকে নিয়ে টাট্টা করছেন।
-আপনাকে নিয়ে টাট্টা করা আমার জন্ম থেকেই খুব শখ।
-আপনি হয়তো ভুল করে আমার কাছে চলে এসেছেন।আপনার গন্তব্য অন্য কোথাও হবে।
-না,আমি ঠিক গন্তব্যেই আছি।
বরং আপনি আমাকে চিনতে পারেননি।
এটা হিমুদের আলামত নয়।
আসল হিমুরা আমাকে দেখেই চিনতে পারে। কিন্তু এতক্ষণ কথা বলার পরেও আপনি আমাকে চিনতে পারেননি।
আসল হিমুর যোগ্যতা আপনার হয়নি।
অবশ্য চেষ্টা করলে হতে পারবেন সেই যোগ্যতা আপনার আছে।

মেয়েটার এই কথাগুলো শুনে মনে হচ্ছিলো আমি হয়তো ভুল করে অন্য কোন জগতে চলে গেছি নয়তো মেয়েটা অন্য জগতের।
কি সব আজগুবি কথা বলছে।

-চেষ্টা করলে হতে পারবো বুঝলেন কেমনে?
-সব কথা বলার দরকার নাই।
-বলেন শুনি।
-আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটা শুনেই আপনি বুঝে ফেলেছেন আমি হিমু চরিত্রের সাথে সম্পর্ক রাখি।
-তাতে কি হয়েছে।
-কিছুই হয়নি।

-আপনি তো আমার মাথাটা নষ্ট করে দিচ্ছেন।
-হিমুদের কখনও মথা নষ্ট হয় না।
-কে বলেছে?
-আমাকে কেউ বলে দিতে হয় না।
-কেন, কে আপনি।নাম কি আপনার?
-এই প্রশ্নটা আজ অবদি যতজন হিমুর সাথে দেখা করেছি কারোও জিজ্ঞাস করে জানতে হয়নি।সবাই আমার কথা শোনে বুঝে ফেলতো আমি কে।
এই দেখেছেন এতেও আপনার আর হিমুর মধ্যে মিল নেই।
-দয়া করে নামটা বলেন।
-রুপা।
-আপনি রুপা,কোন রুপা? আমি বুঝতে পারছি না কিছুই।
-রুপাকে নিয়ে তো প্রায়শই গল্প আঁকেন। চিনতে দেরি হচ্ছে কেন?
-রুপা তো কেবল একটা চরিত্র।
সে তো বাস্তব কোন মেয়ে না।
-সবকিছুই বাস্তব হতে হয়?তাছাড়া মানুষ বাস্তবের চেয়ে স্বপ্নকে বিশ্বাস করে বেশি।
-কি বলছেন!আমি কি এখন স্বপ্ন দেখছি?
-দূর ছাই স্বপ্ন ভাবছেন কেন?দুটোই সমান।
-কেন এসেছেন আমার কাছে?
-এটা বুঝতে না পারাটাই আপনি হিমু নন সেটা বুঝার জন্য যথেষ্ট।
-ঠিক আছে মানলাম আমি হিমু হতে পারিনি।আপনি কেন আসছেন আমার কাছে সেটা বলেন।
-আমি আসি হিমুর কাছে।অনেক আগে থেকেই আসি।হিমুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া অন্য কোন কাজ নেই।
-আমি তো হিমু হতে পারিনি।
-তা জেনেও কেন এসেছি?
-হুম
-আমার আসার কারণটা আপনি জানেন না।
-বলেন শুনি।
-সে অনেক কথা।
-তবুও বলেন।
-সময় হবেনা আপনার,কাজ আছে তো।
-সমস্যা হবে না,কাজ পরে করবো আগে আপনি কেন এসেছেন সেটা বলেন শুনবো।
-আপনার এই আগ্রহটাই বলে দেয় চেষ্টা করলে হিমু হতে পারবেন।তবে এরপর থেকে
হলুদ পাঞ্জাবি পড়তে ভুলবেন না।
-এটাও তো হলুদ।
-ঠিক বলেছেন।তবে হালকা হলুদ। হালকা হলুদে চলবে না, কড়া হলুদ পড়বেন।
-কড়া হলুদ লাগবে কেন?
-সব কথা বলতে নেই।
-ঠিক আছে।কেন এসেছেন বললেন না তো।
-একটা গল্প উপহার দিতে।
-মানে?
-সবকিছুতেই এতো মানে মানে করেন কেন?
হিমুরা এমন করে না।তারা কঠিন কথাও সহজে বুঝতে পারে।
-আমি তো হিমু হতে পারিনি।
-হিমু হওয়া সহজ নয়।অনেক কঠিন। যা চাইলে সবাই হতে পারে, না চাইলে কেউ হতে পারে না।
-আপনার কথা বুঝা খুব কঠিন।
-কঠিন মনে করলে কঠিন,নয়তো সহজ।
আমি এখন চলে যাব।
-আর একটু থাকেন?
-না, আগে হিমু হোন পরে আসবো আবার।
যাবার আগে কিছু কথা বলে যাই
এখান থেকে গিয়ে সোজা নামটা চেইঞ্জ করে নিজের নাম দিবেন।তারপর দুইমাস পর যখন একটু হলেও নিজেকে হিমু হিমু মনে হবে তখন আবার নামটা পাল্টে নিবেন।
এর আগেও আরেকটা কাজ আছে।
-কি কাজ?
-একটা গল্প লিখতে হবে।
-কি গল্প?
-এতক্ষণ যে গল্প বললাম।
-মানে?
-মানেটা চিন্তা করে বের করে নিবেন।আমি গেলাম আবার আসবো অন্য কোনদিন।।।

(সমাপ্ত)

 

— নবীন নাজমুল

One Comment

  1. রাজ্য জ্যোতি (এডমিন)

    আপনার লেখাটা পড়লাম । সত্যিই অসাধারন হয়েছে । আমরা নিয়মিত এমন সব অসাধারন গল্প পেতে চাই আপনার কাছে । আগামী লেখার অপেক্ষায় রইলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.