কম্পিউটার টিপস ▬ কম্পিউটার ক্রাশ ও এর প্রতিকার শিখুৃন

kci-computer-kurigram.jpg

বন্ধুরা আজ তোমাদের জন্য কম্পিউটার ক্রাশ ও এর প্রতিকার কি ভাবে করতে হয় তাহা শিখুৃন-
আগেরকালে পিসির আকৃতি ছোট করার আর এটা যাতে সবাই কিনতে পারে সেই দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হইত। তারা হার্ডওয়্যার তৈরির সময় সবচেয়ে কম দামের পার্টস ব্যাবহার করত আর সফটওয়্যার লেখার সময় বিপদজনক শটকাট ইউস করত। তাছাড়া ধীর গতির পিসিতে ভাল পারফরমেন্স পাবার আশায় অপারেটিং সিস্টেম, সকল এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ও ডিভাইস ড্রাইভার চালানোর জন্য মেইন মেমরির একটি নির্দিষ্ট স্পেস ব্যবহার করত। যার ফলে যেকোনো সফটওয়্যার এ একটি সমস্যা থাকলে তা অন্য সফটওয়্যার এ ছড়িয়ে পড়ত।যার ফলে সিস্টেম ক্রাশ।

আরও কারন আছে ক্রাশ হওয়ার । পিসির বর্তমান অপারেটিং সিস্টেম এর কোড সাইজের স্বাভাবিক বাড়ার কথাই ধরুন। ১৯৯২ সালের উইন্ডোজ এনটি এর অরিজিনাল ভার্সনে সোর্স কোড এর সংখ্যা ছিল ৪ মিলয়ন লাইন। আর ১৯৯৬ সালে রিলিজ হওয়া এনটি ৪.০ এ সোর্স কোড এর পরিমান দারাইছে ১৬.৫ মিলিয়ন। এর পরে যে উইন্ডোজ এনটি এর ৫.০ ভার্সন বের হইছে তাতে সোর্স কোড এর পরিমান আসিল ৩০ মিলিয়ন লাইন । এইবার বুঝেন ঠ্যালা শতকরা বাড়ার হার ৬ বছরে ৭০০% ।

অনেক সময় সফটওয়্যার এর সমস্যার কারনেও এটি হতে পারে । যখন কোন সিস্টেম ক্রাশ করে তখন সফটওয়্যার গুলো ফেইল করে। যদি এটি কোন এপ্লিকেশন হয় তাহলে আপনাকে আনসেভড কাজ গুলা হারাতে হবে । তবে উন্নতমানের অপারেটিং সিস্টেম অবশ্যই অন্যান্য প্রোগ্রামের মেমোরি পার্টিশন রক্ষা করবে। অনেকসময় ক্রাশ করা প্রোগ্রামটি আর অনেক প্রোগ্রাম এ সমস্যা সৃষ্টি করে ফলে পুরা সিস্টেম অচল হওয়া যায়। তখন পিসি রিবুত করা ছাড়া উপাই নাই। আবার অপ্রত্যাশিত রিবুত হার্ডডিস্কে নানান জঞ্জাল বানাতে পারে। তার ফলে আপনার হার্ডডিস্ক ক্রাশ করতে পারে। তার পর আপনাকে নতুন হার্ডডিস্ক লাগাতে হবে।

আবার ভাইরাস এর কারনেও সিস্টেম ক্রাশ হতে পারে। আবার নতুন এক ঝামেলা হইল কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার চুরি। বিশেষ করে র‍্যাম চুরি । র‍্যাম চুরির ফলে সিস্টেম অন হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এর অভাবে আপনার সিস্টেম ক্রাশ করবে।

ক্রাশ প্রতিরোধঃ

১) ভাল মানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন। যেমনঃ নরটন অ্যান্টিভাইরাস। অ্যান্টিভাইরাস আপনার মেমরির কিছু অংশ হয়ত দখল করবে। কিন্তু এটি আপনার কম্পিউটার কে ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখবে । আর প্রতি ৩ মাস পর পর আপনার অ্যান্টিভাইরাস টি আপডেট দিন। আর মাসে অন্তত আপনার অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ণ পিসি স্কেন করুন। কোন কিছু ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দেয়ার পর স্কেন করে নিন।
২) আপনার কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এর ব্যাকআপ করে নিন। যদিও এটি একটি বিরক্তকর জিনিস। কিন্তু সিস্টেম ক্রাশ হলে আপনার অই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল টি যদি না খুজে পাওয়া যায় তাহলে অইটা মনে হয় আর খারাপ হবে।
৩) সপ্তাহে অন্তত আপনার ড্রাইভ গুলো স্কেন ডিস্ক দিয়ে স্কেন করিয়ে নিন। এর জন্য আপনার ড্রাইভ এর উপর রাইট ক্লিক করে properties এ ক্লিক করুন। তার পর tools ট্যাব এ প্রবেশ করে Scan Disk এ ঢুকে আপনার ড্রাইভ টি স্কেন করুন। এটি আপনার হার্ডডিস্ক টি চেক করে এরর গুলো রিপেইর করে দিবে।
৪) প্রতি মাসে অন্তত একবার আপনার ড্রাইভ গুলো Defragment করে নিন। এতে আপনার পিসি এর পারফরমেন্স বাড়বে।
৫) স্টার্ট আপ থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে ফেলুন।
৬) অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন না। করা থাকলেও আনইন্সটল করে ফেলুন।
৭) বেশি প্রোগ্রাম একসাথে রান করবেন না। ফলে আপনার মাল্টিটাস্কিং সুবিধা নিতে গিয়ে সিস্টেম রিসোর্চ ঘাটতি ঘটে আপনার সিস্টেম ক্রাশ করবে ।
৮) ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার ব্যবহার করুন । আমি কিছু ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার এর নাম দিলাম। যখন কোন প্রোগ্রাম ক্রাশ করার পর্যায় এ চলে আসে তখন এসব ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেম কে এটি জানায়। তখন অপারেটিং সিস্টেম অই প্রোগ্রাম টিকে চালু রাখতে সাহায্য করে ও সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালায়। যদি তা সম্ভব না হয় তখন অপারেটিং সিস্টেম প্রোগ্রাম টি থেকে আনসেভড ফাইল সংরক্ষণ করতে চেষ্টা করে।
(আপনি KCI থেকে ১ বছরের জন্য ১টি এন্টিভাইরাস ক্রয় করে নিতে পারেন)

এইখানে কয়েকটি ক্রাশ প্রটেক্টর এর নাম দিলামঃ
* PC Medic
* Norton Crash Guard
* Crush Defender Deluxe
* First Aid
* Safe & Sound
এছাড়াও আপনি আমাদের ১ বছরের জন্য ১টি এন্টিভাইরাস ক্রয় করে নিতে পারেন।

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.