ভুত ছাড়ানো

মানুষ তার জীবন যাত্রায় বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে নানা অভিজ্ঞতা লাভ করে ।
আমারও একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে ভুত নিয়ে । যদিও বৈজ্ঞানিক ভাবে বিচার
করতে ভুত বলতে কিছু নেই । কিন্তু লোকসমাজে ভুত থাকার ব্যাপারে গভির
বিশ্বাস রয়েছে । “মানুস মারা গেলেও আত্মা অমর,” এই ধারণা থেকেই ভুত
থাকার ব্যাপারে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে । লোক সমাজে বলে ভুত নাকি মানুষের পর
ভর করে ও তার অপর খারাপ প্রভাব ফেলে । এই ভুত মানুষের শরীর থেকে ছাড়া
নোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয় । এরকমি ভুত ছাড়ানো নিয়ে আমার
একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে । ২০১৬ সালে আরবি রমজান মাসে রাতের বেলা ঈদের
কেনাকাটা করে সবে বাড়ি এসেছি । তক্ষুণি আমার মামা হন্ত-দন্ত হয়ে এসে বলল,
“হিমি, আসলামদের বাড়িতে ভুত ছাড়ানো হচ্ছে । চল দেখতে যাই ।” তখন আমি
বাজার থেকে কিনে আনা খই খাচ্ছিলাম । কথাটি শোনা মাত্র আমি আমার মামার
সাথে আসলামদের বাড়িতে দৌড় দেই । গিয়ে দেখি সেখানে খুব ভীর । অবশ্য
ভীর ঠেলে আমি ভিতরে ঢুকেছিলাম । সেখানে আমি দেখেছিলাম একজনকে
উঠানের মাঝখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে । সেই লোকটি ছিল তুলা রাশি । তুলা
রাশির উপর নাকি ভুতকে নামানো যায় । তার পাশে বসে ছিল একজন ওঝা ।
ভুত নামানোর আগে কিছুক্ষণ সরিষা চালা হলো । তাহলে নাকি ভুত আসবে ।
এরপর বাড়ির সকল আল নিভিয়ে দেয়া হলো । তখন অবশ্য আমার একটু ভয়
ভয় লাগছিল । এরপর ওঝাটি সবাইকে সাবধান করে দিল যে ভুত আসছে ।
আমার তো তখন খুবই ভয় লাগছিল । তখন আমি মামাকে খোজা শুরু করলাম ।
মামা আমাকে পিছন থেকে বলল,“ ভয় পেয় না ।” তখন তুলা রাশির লোকটি
অর্থাৎ ভুত কথা বলতে শুরু করল । ভুতটি ওঝাকে বলল,“ আমাকে ডেকেছ
কেন ?” তখন ওঝাটি ভুত ধরা মহিলার দিকে দেখিয়ে বলল,“ তুই ঐ মহিলার
সাথে কি করিস ?” তখন ভুতটি বলল, “আমার ওকে ভালো লাগে । ওর সাথে
থাকতে আমার ভালো লাগে ।” তখন ওঝাটি রেগে বলল,“ তোর ওকে ভালো
লাগে মানে, তুই তো ওকে কষ্ট দিস ।” ভুতটি বলল,“ আমি তো ওকে কষ্ট দেই
না ।” তখন ওঝাটি তুলা রাশির ছায়াটিকে মারতে শুরু করল । তখন ভুতটি
চিৎকার করতে শুরু করল । ওঝাটি বলল,“ তুই ওর দেহ ছেরে চলে যা ।” ভুতটী
তাও চলে যেতে অস্বিকার করছিল । তখন ওঝাটি খুব মারতে এবং মুখে কেরসিন
নিয়র তুলা রাশির গায়ে দিতে লাগল । তখন ভুতটি আরো জোড়ে চিৎকার শুরু
করল এবং মহিলাটির দেহ থেকে চলে যেতে চাইল । তখন ওঝাটি ভুতটিকে
বতলের ভিতরে ঢুকতে বলল এবং সঙ্গে সঙ্গে মহিলাটি মাটিতে পড়ে গেলো ।
তারপর ওঝাটি বলল ভুত চলে গেছে । আমরাও বাড়ি চলে এলাম । এরপর অবশ্য
মহিলাটি সুস্থ হয়েছিল । কিন্তু জানি না কিভাবে !!!

লেখকঃ (রিফা তাসফিয়া হিমি)
৭ম শ্রেণি, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে

প্রতিভা খজার লক্ষে আজ পথে পথে....

Leave a Reply

Your email address will not be published.